প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 29, 2026 ইং
ভুল ইকো রিপোর্টে আতঙ্ক, ৪ দিন পর জানা গেল শিশু সুস্থ

ব্যয়বহুল প্রাইভেট হাসপাতালে ত্রুটিপূর্ণ মেশিনারিজের রমরমা বাণিজ্য; ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা, ফোন করেও মেলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের অন্যতম ব্যয়বহুল ও কথিত স্বনামধন্য বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ডায়াগনস্টিক সেবার মান ও নির্ভুলতা নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির একটি ভুল ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ইকোকার্ডিওগ্রাম (ইকো) রিপোর্টের কারণে একটি নিরপরাধ শিশুর পুরো পরিবারকে টানা চার দিন চরম মানসিক ট্রমা ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ শহরের স্বদেশ হাসপাতালে এক শিশুর হার্টের সমস্যা সন্দেহে ইকোকার্ডিওগ্রাম (ঊঈঐঙ) পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে রিপোর্ট দেয়, তাতে দাবি করা হয় শিশুটির হৃদযন্ত্রে ৪.১ মিলিমিটারের একটি মারাত্মক ছিদ্র রয়েছে। এমন আকস্মিক ও উদ্বেগের রিপোর্ট হাতে পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে শিশুটির পরিবার। শুরু হয় তীব্র মানসিক বিপর্যয় ও আর্থিক খরচের অনিশ্চিত দৌড়ঝাঁপ।
উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। স্বদেশ হাসপাতালের পরীক্ষার ঠিক চার দিন পর, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরকারি এই বিশেষায়িত শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে শিশুটির পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ইকো পরীক্ষা করানো হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের করা সেই রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়—শিশুটির হৃদযন্ত্রে কোনো ধরনের ছিদ্র নেই, সে সম্পূর্ণ সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত।
মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি হাসপাতালের এমন সম্পূর্ণ বিপরীত রিপোর্টে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালগুলো বাইরে ঝলমলে চাকচিক্য ও আকাশচুম্বী ফি আদায় করলেও ডায়াগনস্টিকে ব্যবহার করছে মানহীন, ত্রুটিপূর্ণ ও পুরনো যন্ত্রপাতি। দক্ষ টেকনোলজিস্ট ও চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ছাড়াই যেনতেনভাবে রিপোর্ট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। শুধু অর্থ ও সময়ের অপচয়ই নয়, ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে রোগীকে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
সচেতন মহলের মতে, ময়মনসিংহের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে এখন চিকিৎসার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থই মুখ্য হয়ে উঠেছে। যেখানে একটি সুনির্দিষ্ট প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা যথেষ্ট, সেখানে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪টি অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা চাপিয়ে দিয়ে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা রমরমা রাখা হচ্ছে। প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিগুলোর প্যাথলজিক্যাল মেশিনারিজের মান, নিয়মিত ক্যালিব্রেশন এবং কমিশন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি:
ভুল ইকো রিপোর্ট ও ডায়াগনস্টিক মেশিনারিজের মান প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত ‘স্বদেশ হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড’ কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে একাধিকবার কল করার পরেও দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক খবর সারাক্ষণ